carisoprodol side effects dry mouth erythromycin 500mg for sore throat teva tramadol inactive ingredients venlafaxine xr 75 mg cost valium weed paranoia
বিডি আর্কাইভ

জামদানি আমাদের ঐতিহ্যের অঙ্গীকার

ইফতেখার ইকবাল: সারসংক্ষেপ: বয়নশিল্পের ঐতিহ্য দক্ষিণ এশিয়ায় চার হাজার বছরের। সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলা ব-দ্বীপে তুলার চাষ ও উত্পাদন, বিভিন্ন রকম অসাধারণ মসৃণ কাপড়ের জন্য বিশেষ জায়গা দখল করে আসছে। ব-দ্বীপ অঞ্চলের মধ্যে বৃহত্তর ঢাকা প্রাচীনকাল থেকে মসলিনের উত্পাদন ও বাণিজ্যের জন্য অন্যতম জায়গা ছিল। অনুমান করা হয় যে মসলিনের মধ্যে ৩৬টি ভিন্ন ভিন্ন পণ্য রয়েছে। জামদানি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। জামদানি তৈরির কলাকৌশল শুধু ঢাকার আড়ংয়ের কারিগরদের আয়ত্তাধীন। মধ্য ঊনবিংশ শতকে ওয়াটসন যে ১ হাজার ৪০০ নমুনা সংগ্রহ করেন। তার ১৫টি নমুনার মধ্যে দুটি জামদানির নমুনা ছিল।

দক্ষিণ এশিয়া বা পৃথিবীর অন্য কোথাও জামদানি নামে কোনো পণ্য পরিচিতি পায়নি। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার বয়নশিল্পের নকশা, কৌশল, গঠনবিন্যাস নির্ভর করে আসছে। ভৌগোলিক নির্দেশনা (Geographical Indication) আইন অনুযায়ী ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক দিক দিয়ে জামদানি বিশেষভাবে ঢাকা অঞ্চলেরই। সে বিবেচনায় ঢাকা ভৌগোলিক নির্দেশনা দাবি করে।
মুখ্য শব্দগুচ্ছ: ঢাকাই জামদানি, বয়ন-প্রক্রিয়া, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জামদানি বাণিজ্য, ভৌগোলিক নির্দেশনা।

জামদানির পরিচিতি
জামদানি শব্দটি ফারসি শব্দ জামা(ই) থেকে এসেছে, যার অর্থ কাপড়।১ ফারসিতে জামেদান অর্থ জিনিসপত্র রাখার ছোট ঘর অথবা আলমারি। বয়নশিল্পের ইতিহাসে জামদানিকে শাড়ি হিসেবে দেখা হয়, যা বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় পোশাক। এখানে জামদানির তিনটি সংজ্ঞা দেওয়া হলো:
ক. একধরনের কাপড়, যেখানে ফুল বোনা হয় (সাধারণত মসলিন) (হান্টার ১৮০৮)।
খ. ফুল এবং অন্যান্য নকশায় বোনা ঢাকার মসলিন (নাইট ১৮৮১)।
গ. নকশা করা ও ফুলেল ঢাকার মসলিন।
জামদানির বিশিষ্টতা বুঝতে হলে ফুলময়তা ছাড়াও অন্যান্য সূক্ষ্ম জিনিসে নজর দিতে হবে। এর গঠন জ্যামিতিক এবং নকশায় ফুল ছাড়াও অন্যান্য জিনিস যেমন—গাছ, মাছ বা লতাপাতা থাকতে পারে। জামদানির বৈচিত্র্য অনেক কিন্তু তিনটি মূল নকশা আছে। ‘জাল’ সবচেয়ে জটিল, যেখানে পুরো জমিনজুড়ে কাজ থাকে; ‘তেরচি’তে জ্যামিতিক নকশা থাকে এবং ‘বুটি’তে ফুল ও ঝরনা পুরোটা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে (গুজনাভি ২০০৬: ৪৭ ; আরও দেখুন গিলো ও বার্নার্ড ২০০৮: ১৮৬)। এর বয়ন-প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নের ধরন অনন্য। এককথায়, নকশার ঐশ্বর্য, তাঁতিদের দক্ষতা ও কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণে জামদানি খাঁটি বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে বিকশিত হয়েছে। ওয়াটসন দাবি করেন, জামদানি অথবা মসলিনকে ভারতীয় কারিগরদের সেরা শিল্পকর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অত্যন্ত চমত্কার, নিখুঁত, সুকৌশলী। কঠিন নকশার কারণে তারা ঢাকা তাঁতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পণ্য উত্পাদন করে।<

মন্তব্য দিন