doxycycline 200 mg for dogs diazepam high altitude wellbutrin 150 mg xl vs sr can tramadol and ibuprofen be taken together
বিডি আর্কাইভ
টিনএজ সন্তানের প্রেম

যখন টিনএজ সন্তানের প্রেমের কথা শুনি

‘কষে কয়েকটা চড়থাপ্পড় লাগাও, আর দুদিন ঘরে বন্দী করে রাখো, প্রেম কোথায় ছুটে যাবে দেখো!’

আগের দিনে এই ছিল টিনএজ প্রেম ছাড়িয়ে দেওয়ার মোক্ষম প্রেসক্রিপশন। কিন্তু সেই প্রেসক্রিপশনে সব সময় যে কাজ হয়েছে, তা হলফ করে বলা যাবে না। আর এখন তো এই দাওয়াই একেবারেই ব্যর্থ। সন্তানের ওপর এটি প্রয়োগ করতে গেছেন তো মরেছেন। এমন বিগড়ে যাবে যে সহজে আর বাগে আনতে পারবেন না।

এই যুগের কয়েকজন মা–বাবার সঙ্গে কথা বলছিলাম টিনএজ সন্তানের প্রেম নিয়ে। প্রশ্ন ছিল, ‘ধরুন, আপনি জানতে পেরেছেন আপনার টিনএজ সন্তান প্রেমে পড়েছে, কী করবেন তখন?’

কিছুক্ষণ ভাবার সময় নিলেন নাহার সুলতানা (ছদ্মনাম)। বললেন, ‘অস্বীকার করব না, প্রথমে একটু আপসেট হবই। কারণ, এই বয়স তো ভুল করার। হয়তো রাগ হবে। বাচ্চাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাব। কিন্তু সেটা বাচ্চাকে বুঝতে দেব না। আর তার আবেগকেও অসম্মান করব না। গোপনে খোঁজখবর নেব কার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে সে। সেই সঙ্গী বা সঙ্গিনীটি কেমন, ভালো না মন্দ। বন্ধুর মতো আচরণ করে বুঝে নিতে চাইব তার মনের অবস্থা। খোলাখুলি আলোচনা করার চেষ্টা করব। সম্পর্কটা কতখানি গভীর, তা–ও বোঝার চেষ্টা করব। তারপর বোঝাব যে ঠিক আছে, তোমার সম্পর্ক থাকুক, কিন্তু আরও সময় নাও। একজন অন্যজনকে জানো–বোঝো, বন্ধুর মতো থাকো। পড়াশোনা শেষ করো, নিজের পায়ে দাঁড়াও। তারপর বিয়ের কথা ভাববে। তত দিন আমি তোমার পাশেই আছি।’

‘ঠিক তা–ই’, বললেন এক তরুণ বাবা আনোয়ার সাদি। ‘আমার মেয়ের বয়স এখন পাঁচ। তার সঙ্গে আমি এমন একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছি, যাতে মেয়েকে বলতে পারি, আমি চাই, তোমার প্রথম প্রেমের খবরটা তুমি সবার আগে বাবাকে জানাবে। হা, হা, হা। দেখুন, ঘরে যদি বন্ধু না থাকে, তবে সন্তান তো ঘরের বাইরে বন্ধু খুঁজবেই আর সেই বন্ধু যে সব সময় সঠিক পরামর্শ দেবে, তা না–ও তো হতে পারে…। ’

এই বয়সের প্রেমে একটা ঝুঁকি থাকে, অনেকে না বুঝে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে। এটা যাতে না করে, তা নিয়েও সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করা দরকার, যোগ করলেন আরেক মা।

শুধু তা–ই নয়, সন্তানদের সঠিক যৌনশিক্ষাও দেওয়া উচিত। বাংলাদেশের বাবা–মায়েরা সন্তানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান না। অস্বস্তিতে ভোগেন। কিন্তু সন্তানের নিরাপদ ও সুস্থ জীবনের জন্য জীবনের প্রতিটি ধাপেই তাকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া দরকার। অল্প বয়সে প্রেমে পড়ার পর শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে গিয়ে সন্তান যাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটিয়ে না বসে, সে বিষয়েও বাবা-মাকেই লক্ষ রাখতে হবে, বললেন নাহার সুলতানা।

টিনএজ রাগ, জেদ আর অভিমানের বয়স। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এ বয়স খুবই স্পর্শকাতর। এ সময় অল্পতেই মন খারাপ হয়, সামান্যতেই মাথা গরম হয়ে যায়। তাই অভিভাবকদেরও থাকতে হয় সতর্ক।

এ বয়সে সন্তান প্রেমে পড়লে উত্তেজিত হয়ে গালমন্দ করা ঠিক নয়। অনেকে ভাবেন, কিছুদিন মোবাইল রেখে দিলে বা ঘরবন্দী করে রাখলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এর ফলে আপনার সন্তান বাড়ি ছেড়ে পালানোর মতো ভুল করে বসতে পারে। আবার এ সময় আপনি যদি কোনো কিছু নিয়ে খোঁটা দেন, অপমানসূচক কথা বলেন, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা তিরস্কার করেন, তাহলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সন্তানকে ধৈর্য নিয়ে, আদর করে বোঝাতে হবে।

সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। তাকে গুণগত সময় দিন। সারা দিন কী করছে, কোথায় গেছে, কী খেয়েছে—এসব খবর রাখুন। তবে সেটা যেন খবরদারি না হয়। সন্তানকে প্রাইভেসি দিন। ওর আবেগকে সম্মান করুন। ওর মনটা বুঝতে চেষ্টা করুন। তার ইচ্ছা–অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দিন।

টিনএজ বয়স পার হলে মানুষের মনে অনেক পরিবর্তন আসে। ভালো লাগার পরিবর্তন হয়, ভালোবাসার পরিবর্তন হয়। একসময় যাকে অনেক প্রিয় মনে হয়, পরে আর সেটা তেমন প্রিয় না–ও মনে হতে পারে। তাই টিনএজ প্রেমের সম্পর্কটিকে শুরুতেই কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা না করে ধৈর্য ধরতে হবে। যার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক হয়েছে, প্রয়োজনে তাকে সঙ্গে নিয়ে সম্পর্কটির ভালো-মন্দ যুক্তি দিয়ে আলোচনা করতে পারেন। ভবিষ্যৎ জীবন গড়তে এই বয়সে পড়ালেখাটাই যে আসল, তা বুঝিয়ে বলতে পারেন। আর সম্পর্কের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তাদের ওপরই ছেড়ে দিন।

আর সবশেষ কথা, সন্তান যা–ই করুক না কেন, তাকে ভরসা দিন, আপনি সব সময় তার পাশে আছেন। সন্তান যেন উপলব্ধি করে, আপনি তার এমন বন্ধু, যাকে দুঃখ-যন্ত্রণা-পরাজয়-বেদনা এবং হতাশাতেও পাশে পাওয়া যায়।

লেখক শাহনাজ মুন্নী: সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

সরাসরি সিদ্ধান্ত চাপানো যাবে না

অ্যানি বাড়ৈ

প্রভাষক ও কাউন্সেলর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

প্রেমে পড়তে কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সেই মানুষ প্রেমে পড়তে পারে। টিনএজ বয়সে প্রেমে পড়লে ভুল করার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এ বয়সে দুজন টিনএজ ছেলেমেয়ের মন দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেন না অভিভাবক বা মা-বাবা। টিনএজ বসয় প্রথম ভালো লাগা ও ভালোবাসা মোহ। আর মা-বাবা এ বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টোভাবে নেন। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

আমার মতে, টিনএজ ছেলেমেয়ের প্রেমের বিষয়টা শুরুতেই মা-বাবার শুনতে হবে। বিষয়টি বিস্তারিত শুনে তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বিষয়টি নিয়ে শুধু অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। কথার মাধ্যমেই সমস্যাটি সমাধান করা উচিত। এই বয়সীরা যখন প্রথম প্রেমে পড়ে, তখন সে একটা মোহের মধ্যে থাকে। সে মোহটা কাটানোর চেষ্টা করা উচিত অভিভাবকদের। তাঁদের বোঝানো উচিত।

অবশ্য ছেলেমেয়ের বয়স যদি ১২ থেকে ১৩ বছর হয়, তাহলে তাদের বোঝানোর ধরন এক রকম হওয়া উচিত। আর বয়স যদি ১৭ থেকে ১৮ বছর হয়, তাহলে বোঝানোর ধরন আরেক রকম হওয়া উচিত। ১২ কি ১৩ বছর বয়সে প্রেমের সম্পর্কে তাদের জড়াতে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা উচিত। আর বয়স একটু বেশি হলে সম্পর্কের বিষয়টা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। এ বয়সটায় সন্তানকে বোঝানো উচিত, এখন পড়াশোনার সময়। যদি সম্পর্ক করতে হয়, তাহলে পড়াশোনা শেষ করে শুরু করা উচিত।

প্রেম বা সম্পর্কের বিষয়ে অভিভাবকদের টিনএজের মানসিক বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা উচিত। তার ওপর সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

বন্ধু বা সহপাঠীকে কম বয়সীরা অনেক সময় মা-বাবার চেয়ে গুরুত্ব দেয়। টিনএজারদের মধ্যে অনেক সময় দেখা যায়, বন্ধুরা প্রেম করলে তারও করতে ইচ্ছে করে। প্রেমের বিষয়টি নিয়ে ছেলেমেয়েদের সারাক্ষণ বলা উচিত নয়। সারাক্ষণ বললে টিনএজরা বিষয়টায় বিরক্ত বোধ করে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

https://www.prothomalo.com/life-style/article/1559043/যখন-টিনএজ-সন্তানের-প্রেমের-কথা-শুনি

মন্তব্য দিন